ঢাকা,
মেনু |||

আওয়ামী এজেন্ট শাহ-আলম মোল্লা বিএনপি থেকে অব্যহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহ আলম মোল্লাকে অব্যহতি দিয়েছে জেলা বিএনপি। গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপি সদস্য সচিব এ্যাড. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা জানাযায়। শাহ-আলম মোল্লা ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১০নং নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের নইয়ারি গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর পুত্র।
উল্লেখ্য, শাহ আলম মোল্লার ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান হয় ২০০৮ সালের কিছু পূর্ববর্তী সময়ে। তিনি তার আগে নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার যুবদলের কোন পদ পদবী ছিল কিনা তা সঠিকভাবে জানাযায় নি। আত্মীয়-স্বজন এবং বংশানুক্রমে সবাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০০৮ সালের সময়ে তাঁর ভাইদের টাকার তিনি নিজেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বানানোর খায়েস করেন। পদ-পদবী না থাকার কারণে তার সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় এই অবস্থা বুঝতে পেরে তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সম্পাদকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাদের সমর্থন আদায় করে। তৎকালিন সময় ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে সাবেক বিএনপি’র নেতা শেখ রুহুল আমিন সাহেবের বাড়িতে কাউন্সিল এর আয়োজন করা হয়। উক্ত কাউন্সিলের জেলা থানা থেকে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। তিনি বুঝতে পারেন আগে পদ পদবী না থাকায় তার জন্য সভাপতি হওয়া কষ্ট দায়ক। তাই তিনি আওয়ামীলীগ এবং নিজস্ব গুন্ডা বাহিনী নিয়ে জেলা-থানা থেকে আগত নেতাদের অবরুদ্ধ করেন। লাঞ্চিত করার ভয় দেখিয়ে মৌখিক সভাপতি আদায় করে নেন। অনেক ক্ষেত্রে শুনা যায় কোন প্যাডে তার এই পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। সময় অসময় তিনি নিজেকে গুন্ডা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি জাতীয়তাবাদী আওয়ামিলীগ হিসেবেও বেশ পরিচিত। যেখানে নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারেন না সেখানে তিনি সমঝোতার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ করিয়ে যাচ্ছেন। সময়, অসময় টাকা দিয়ে মাথা কিনতে তিনি বেশ অভ্যস্ত। যারা তার কাছে বিক্রি না হয় তাদের তিনি তার পালিত ভাগিনা গ্রুপ দিয়ে লাঞ্চিত করানোর চেষ্টা করে থাকেন। প্রয়োজনে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করান এবং মামলার ভয় দেখান। ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য ছিল এমন দল করলে শাহ আলম মোল্লার মত করো, টাকা দিয়ে কিনে নাও সব। সভাপতি হবার পরে তিনি একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেননি। একদিন ইউনিয়নে কোন দলীয় প্রোগ্রাম করেন নাই। ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি পুর্নাঙ্গ করার এত টুকু চেষ্টা করেন নাই।
যখন যাকে মন চাইতো সেক্রেটারি ঘোষনা দিয়ে বলতেন তুমি সেক্রেটারি। এমনকি শেষ সময়ে তার ঘোষণা অনুযায়ী সেক্রেটারি জনাব ইসমাইল বিশ্বাস একাধিক সময় আওয়ামী মঞ্চে উপবিষ্ট হয়েছেন। নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দলের অংশ মনে করার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন নাই। তিনি বিগত দুই নির্বাচনেই নৌকায় ভোট দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে এজেন্ট লিস্ট আওয়ামিলীগের হাতে তুলে দিয়েছেন।এবং বলতেন জেলার প্রোগ্রাম আমার টাকা ব্যাতিত হয় না, আমাকে আটকানো কিংবা নির্দেশ দেয়ার শক্তি কার আছে। শেষ ইউনিয়নের কাউন্সিলেও তিনি নেতৃত্ব দিয়ে হামলা করেন। যেখানে একজন ব্যাক্তির বাড়ি ঘর ভাংচুর করেন। তার নেতৃত্বে একজন বি এন পির লোক ছিলনা। ছিল তারই ভাগিনা গ্রুপ এবং ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ।
এর আগে আহব্বায়ক কমিটি গঠন প্রাক্কালে তিনি থানা থেকে দুইবার পুলিশ পাঠিয়েছেন। অত্র ইউনিয়নে তার ভাগিনা গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন সমাজ বিরোধী কাজ সংগঠিত করে আসছেন। এলাকার মানুষ সম্মানের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। এসবের মদদ দাতাদের ভিতর তিনি অন্যতম। এই হামলা প্রত্যক্ষ করে জেলা বি এন পি তাকে অব্যাহতি দেয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার টাকায় লালিত – পালিত কিছু ছেলে-পেলে উপজেলা তথা জেলা বিএনপিকে উদ্যেশ্য করে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করে। এমনকি তাহার ছেলে সৌদি প্রবাসী রিদয়কে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক পান্নু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন এবং উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের ১নং যুগ্ম আহব্বায়ক রাজিবকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। যাহা দলের ভাবমূর্তি ব্যপক ভাবে ক্ষুন্ন করে এবং বিরোধীদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন হয়। এমনকি তিনি বলেন তারেক রহমানের নেতৃত্ব ভুল পথে প্রবাহিত এবং তার নেতৃত্বকে অস্বিকার করেন। ইউনিয়নের ভিন্ন ভিন্ন নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় দলের জন্য সে একটি বিষফোড়া, তার কাছে জিম্মি সাধারন নেতাকর্মীরা। তার এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তাই তারা শাহ আলম মোল্লার স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছেন এবং যে বা যাহারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব অস্বিকার করেন তারা বিরোধী এজেন্ট ছাড়া কিছুই নন।


admin

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
সা‌হিত‌্য সম্পাদক: এম কে সুমনা
Desing & Developed BY Engineer BD Network