ঢাকা,
মেনু |||

দোষ কি শুধু ছাত্র নেতাদের ?

বুকে হাত দিয়ে বলুন, ‘দোষ কি শুধু ছাত্র নেতাদের ?কেন আজ আমরা আমাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পাবে না।

সাইফুল ইসলাম সুজন, সাবেক ছাত্র নেতা:
এই নগরীতেই জন্ম আমার, বেড়ে উঠেছি নগরীতেই। নগরীর অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলাম আমি। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম আব্দুর রহমান বিশ্বাস’র বাসভবন। তাই যাওয়া আসার পথেই দেখতাম বাসভবনকে ঘিরে থাকতো রাজনৈতিক দলের নেতাদের আনাগোনা। স্বাভাবিকভাবে অনুসন্ধিসু মনে বাসার সামনে দাড়িয়ে নেতাদের কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা শুনতাম। স্কুল জীবনেই আস্তে আস্তে নেতাদের সাথে মিছিল মিটিংএ যাওয়া শুরু করে দেই। নিজের অজ্ঞাতে স্কুল জীবনে জড়িয়ে গেলাম রাজনীতিতে।

বীরযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দেশের জন্য ত্যাগ এবং ঐতিহাসিক কর্মকান্ড’র স্তুতি শুনে নিজেকে তাদের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার রাজনীতির মাঠে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া শুরু করেছি তখন থেকেই। সদর আসনের সাবেক সাংসদ মরহুম ডা. এহতেশামুল হক নাসিম বিশ্বাস’র নেতৃত্বের গুন, চলাফেরা, বিভিন্ন কর্মকান্ডে ভুমিকা দর্শনে মুগ্ধ হয়ে আমি নিয়মিতভাবে তা যেকোন কর্মসুচীতে অংশ নিয়েছি।

রাজনীতিবিদ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ছাত্র নেতা হওয়ার স্বপ্নের শুরু করেছি, সেই স্কুল জীবন থেকেই। স্কুল জীবনের গন্ডি পার হওয়ার আগেই এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পরেই পেয়েছি নেতৃত্বের দায়িত্ব। নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সকল প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে কর্মসুচী পালন করা শুরু করেছি। সর্বশেষ ২০১২ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক,,
ছাত্র নেতা হওয়ার জন্য যে সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার সবই পূরন করে এগিয়ে চলেছি। তবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কি আর কিছুই পেয়েছি ?

বরং এখন শুনতে হচ্ছে, ছাত্ররাজনীতি কলুষিত হয়েছে। যারা এ প্রচারের অপচেষ্টা করছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, দোষ কি শুধু ছাত্র নেতাদের ? একবার নিজেদের প্রশ্ন করে দেখুন, আপনারা কি আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন ?

ছাত্ররাজনীতির সেই ক্যাম্পাস, পরিবেশ ও সেই গৌরবময় অধ্যায় আগে ফিরিয়ে দিন। ছাত্র রাজনীতির সেই সহবস্থান ও মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা, বক্তৃতা দেয়ার, সাধারন ছাত্রদের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্র তৈরি করে দিন।

বর্তমানে কি হচ্ছে ? সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন একক কর্তৃত্ব নিয়ে সকল প্রতিযোগিতার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা জেষ্ঠ্য নেতাদের দেখাতে হবে। ক্যাম্পাস ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি করার সুযোগ ও ছাত্রসংসদ সচল করে দিন। আমাদের রয়েছে অনেক শ্রম, মেধা,ত্যাগ। আমারা সম্ভাবনার বীজ বপন করতে চাই। আমি আমার প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মি। ছ্ত্রাদল আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে একাকার।

ছাত্রনেতা কে ??
সম বয়সী বন্ধু-বান্ধব যখন ক্যাম্পাসে আড্ডায় মশগুল তখন ছাত্র নেতারা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। রাজপথে পুলিশের বন্ধুকের নলের সামনে দাড়িয়ে শ্লোগান দেয়। সহপাঠি সাধারণ ছাত্ররা যখন পকেটে থাকা ৫০০ টাকা নিয়েই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ফাস্টফুড আর কোমল পানীয় খায়, ঠিক তখন সম পরিমান টাকা নিয়ে রাস্তার ধারে সস্তা কোন রেস্টুরেন্টে কর্মীদের নিয়ে সিংঙ্গাড়া আর চায়ের কাপে চুমক দেয় ছাত্রনেতারা। বন্ধুরা যখন সারা রাত ফোনে প্রিয়জনদের সাথে গ্রুপ চ্যাট, ম্যাসেজিং আর রসালো ফোনালাপে সময় পার করে ঠিক তখন ছাত্রনেতারা সহযোদ্ধার সাথে আগামী কালের প্রোগ্রামের কর্ম পরিকল্পনা, কম্পোজ কি হবে, কোথা থেকে লোক আসবে এবং কি ভাবে নেতা-কর্মীদের সু-সংগঠিত করা যায় সে বিষয়ে আলোপ করে।

নিজের পকেট শূণ্য, কিন্তু ধার করে অনুজের আবদার পূরন করা, নিজের ফোনে যখন ব্যালেন্স নেই তখন অনুজদের মোবাইল ব্যালেন্সের যোগান দেয়া। একজন ছাত্রনেতা তার সংগঠনের অস্তিত্বের জানান দিতে নিজে দুরাবস্থায় থেকে অনুজদের জন্য আরো কি না করে থাকে। কিন্তু ছাত্র নেতাদের জন্য মুল দলের কি কোনই দায়িত্ব নেই। বিএনপি’র কয়জন নেতা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে আপনারা শেষ করে একজন ছাত্রনেতার মুখে আদর করে এক বেলা দুপুরের আহার তুলে দিয়েছেন, কয়জন ছাত্রনেতাকে পকেট মানি দিয়েছেন ? কখনো খোঁজ নিয়েছেন কি ছাত্র নেতারা কি করে দল এবং আপনার প্রোগামে কর্মীর যোগান দিয়েছো। আমার বিশ্বাস এমন প্রশ্নের উত্তর অনেক নেতাদেরই জানা নেই।

অথচ এই আপনারাই মঞ্চে দাড়িয়ে সর্ব প্রথম বঞ্চনা-গঞ্জনা করেন আমাদেরমত অনুজ ছাত্রনেতাদের। লম্বা বক্তৃতা দিয়ে আদেশ উপদেশ অনুযোগ, অভিযোগ করেন সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে। আর যাবার সময় একগাধা শ্লোগানে শিক্ত হন। প্রটোকল নিয়ে চলেও যাচ্ছেন। তাকাচ্ছেন না পিছু ফিরে। নেতা আপনাদের বলছি, নিজের বিবেককে একবার হলেও প্রশ্ন করুনতো কদিন কয়টা ছাত্রনেতাকে পরামর্শ দিয়ে বক্তৃতা কম্পোজ আর সংগঠন করতে শিখিয়েছেন ?

সমালচনা করা খুবই সহজ। মূখ্যদের প্রধান হাতিয়ার মিথ্যা অশ্লীলতা আর চিৎকার করা। কিন্তু একজন ছাত্রনেতা জানে তার প্রকৃত প্রতিবাদের ভাষা, জায়গা ও সময়। আপনারা যেই সকল ছাত্রনেতাদের নিয়েই সমালোচনায় মূখর। অথচ আড়ালে আবড়ালে ওরাও আপনাদের কতটা সম্মান করে, ভালবাসে তা কি কখনই খবর নেবার চেষ্টা করেছেন ? আপনারা যারা কপাল গোছিয়ে সমালোচা করে বলেন, ” আমাদের সময় ছাত্রদল করতে তো এত টাকা লাগতো না” যদি ছাত্রনেতারা প্রশ্ন তোলেন যে “তখন তো বিএনপি নেতারা পাজারো চড়তেন না, এসি রুমে বসে মিটিং করতেন না” তখন মুখ কোথায় লুকাবেন ?।

একজন ছাত্রদল নেতা যখন একটা ইউনিটের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করেন তখন তাকে কতটা তার অনুজদের আবদার পূরন করতে হয় সেটা একমাত্র ভূক্তভোগীরাই ভালো আচ করতে পারে। আপনারা যারা সমালচনা করছেন তারা জানেন না। কিন্তু আমরা সুনেছি….

ভাই ফোনে টাকা নাই?
ভাই খুদা লাগছে?
ভাই গাইড কিনবো?
ভাই আপনাদের সাথে যাবো আলাদা একটা ভাড়ার বাইক নিয়ে আসলাম কিন্তু!
ভাই রোজ রোজ এক পুরান শার্ট পরতে আর ভাল লাগে না !
ভাই স্যান্ডেল জোড়া ছিড়ে গেছে !
ভাই ফরমফিলাপের সব টাকা জোগাড় হয় নাই !

ওরা আমার কাছে বলতে পারছে, কিন্তু আপনার কাছে যেতে সাহসও পায় না। তাই আপনারা পাশে না দাড়ান আপত্তি নেই, অন্তত দয়াকরে সমালোচনা করবেন না। এ সকল অনুজদের ন্যায়-অন্যায় আবদার আমরাই পূরন করছি সাধ্যমত। কিন্তু ফল আপনারাই ভোগ করেন,,

সাইফুল ইসলাম সুজন
সাবেক যুগ্ম আহবায়ক।
ছাত্রদল,বরিশাল জেলা


akash bangla

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network