ঢাকা,
মেনু |||

ফিরে দেখা ২১ আগষ্ট

 

বিএনপি খুব ভয়ানক ভয়ানক সব ঘটনার জন্ম দিয়েছে। অবশ্য এই বিষয়টা বিএনপি’র জন্মসূত্রে পাওয়া। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতির বৈধতা দিয়েছিল। এটা এখন সর্বজনবিদিত। একটা সময় ছিল বঙ্গবন্ধু’র হত্যাকান্ডের পিছনের ইতিহাস জানতো না। বাংলাদেশের বিরোধী শক্তির নিরাপদ রাজনৈতিক ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায় বিএনপি। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বিনাশ করার ভয়াবহ পরিকল্পনার কর্মসূচী। যে আর্জেস গ্রেণেড দিয়ে সব কিছু ধ্বংস করতে চেয়েছিল সেই গ্রেণেড কারা ব্যবহার করে থাকে। এটা তারা কোথা থেকে পেলো। বিএনপি’র শাসনামলে ( ২০০১ – ২০০৬ ) এমনই পৈশাচিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বহুসংখ্যক। বানিয়ারচরে গির্জায়, খুলনায় কাদিয়ানিদের মসজিদে, সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারের মতো যেমন ধর্মীয় স্থানে, ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

 

 

২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগের পূর্ব নির্ধারিত সন্ত্রাস, বোমাবাজি, জঙ্গী হামলার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশে ভয়ংকর হামলা। এসব হামলার ও পৈশাচিক ঘটনার প্রকৃতিগত কিছু পার্থক্য থাকলেও সাদা চোখে ধরা পড়ে সবগুলোই এক সূত্রে গ্রথিত। অবিস্ফোরিত যে গ্রেণেডগুলো পাওয়া গিয়েছিল সবই ‘ আর্জেস গ্রেণেড ’ । সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্যে প্রস্তুত করা হয় । ২৩ , বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ এ অবিস্ফোরিত গ্রেণেড , জেলখানার অভ্যন্তরে পাওয়া গ্রেণেড সবই একই গ্রেনেড । গ্রেনেডের গায়ে লেখা ‘ এমওএফ ’ অর্থাৎ মেইড অফ পাকিস্তান । বুঝতে বাকি থাকে না এই গ্রেণেডগুলো কোথা এসেছে এবং কারা এনেছে। কারাগারের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে গ্রেনেড পাবার খবর পাওয়া যায় সকাল সাতটার দিকে।

 

 

ততক্ষণে বন্দিরা লকাপ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বন্দিরা লকাপের বাইরে আসার পর ঝাড়–দার মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে গ্রেনেড পড়ে থাকতে দেখে। সে প্রথমে এই খবর জানায় তার আরেক সহকর্মীকে। কিছুক্ষণ পরেই জেলার এসে নিশ্চিত হন এটি হ্যান্ড গ্রেনেড। এরপরই খবর দেয়া হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে। বেলা ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক ইউনিটের ক্যাপ্টেন মারুফ ও শামস এটি উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। উদ্ধারের পর তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পাওয়া দুটি গ্রেনেডের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এটিও একই ধরণের গ্রেনেড। বিস্ফোরণ ক্ষমতাও একই বলে তিনি জানান।

 

 

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী র‌্যালীতে, ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা একটি সিনেমা হলে বোমা হামলা হয়। ১ অক্টোবরের নির্বাচনের কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জের শাল্লায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী সভার অদূরে ৪ যুবক বোমা বহন করার সময় বোমা বিস্ফোরিত হয়। একই দিনে নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শেখ হাসিনার জনসভার অদূরে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। দু-একদিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ শহরের রাজবাড়িয়া মনিকা ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

 

 

বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে এক সঙ্গে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে ২১ জন নিহত হয়। এ হামালার পর পরই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হামলার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। পরে পুলিশ তদন্তে আন্তর্জাতিক একটি চক্র জড়িত থাকার কথা বলা হয়। ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের সখিপুরে একটি গ্রাম্য মেলায় বোমার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হয়। ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে গ্রেনেড হামলা শুরু হয় সিলেটে।

 

 

জামাতের এমপি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী হযরত শাহজালাল (রহ.) এ মাজার সম্পর্কে কটুক্তি করে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার মাত্র ৩ দিন পরে হযরত শাহজালাল (রহ.) এ মাজারে ওরস চলাকালে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সিলেট পরিণত হয় বোমা হামলার শহরে। ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে লক্ষ্য করে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে আবার বোমা হামলা করা হয়। এরপরে ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। সেই বছর আগস্ট মাসের ৫ তারিখে সিলেট শহরের দুটি সিনেমা হলে এবং একদিন পর ৭ আগস্ট সিলেটের মেয়র বদরুদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা হয়।

 

 

(২)
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনা ছিল রহস্যঘেরা। গ্রেনেড বাইরে থেকে ছোড়া হয়েছে না সরাসরি গেট দিয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল কারাগারের পশ্চিম পাশে উর্দু রোডের যে কোনো বহুতল ভবনের ছাদ থেকে এই গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়েছে। তবে উর্দু রোডের ব্যবসায়ীসহ বাসিন্দাদের কেউই এ কথা মানতে নারাজ। তাদের মতে, কোনোভাবেই বাইরে থেকে ছুড়ে ৯০ সেল ডিঙিয়ে এর সামনে ২৬ সেলের মাঝের ফাঁকা জায়গায় গ্রেনেড ফেলা সম্ভব নয়। শনিবার রাতে কিভাবে গ্রেনেডটি ঐ স্থানে গেলো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও। এক্ষেত্রে কারাগারে মাছ সরবরাহকারী ঠিকাদারদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে গোয়েন্দা। একজন বিতর্কিত সাংসদ ও একজন ওয়ার্ড কমিশনার মূলত কারাগারে মাছ সরবরাহ তদারকি করে থাকেন। [ সূত্র : ভোরের কাগজ ২৪ আগস্ট ২০০৪]

 

 

 

প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগে চট্টগ্রামেই তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকেসহ দেশের প্রগতিশলী রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে খুন করার জন্য গুলি চালানো হয়। সৌভাগ্যক্রমে তখন বেঁচে যান শেখ হাসিনা। আবার ২০০০ সালে গোপালগঞ্জে এক জনসভায় বোমা পুঁতে রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল একটি ইসলামি মৌলবাদী জনগোষ্ঠী। তখনো তা সৌভাগ্যক্রমে ভন্ডুল হয়ে যাওয়াতে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

 

 

গত ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনার জনসভায় উপর্যুপরি গ্রেনেড ছুড়ে ও গুলি করে হত্যার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে ঘাতক চক্রটি।২০০৪ সালের ৫ জুলাই শেখ হাসিনা যখন তুরস্কের ইস্তাম্বুল সফর করছিলেন তখনো অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুরস্কের ওই হোটেলে এবং ঢাকায় সুধাসদনের বাসায় ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ওই হুমকির ব্যাপারে কোনো তদন্ত করা হয়নি। শেখ হাসিনাকে হত্যা করবার কত রকম ষড়যন্ত্রই না করা হয়েছে । কম করে হলেও ১৯ বার হত্যাচেষ্টার ইতিহাস রয়েছে । বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর যারাই ক্ষমতা এসেছে তারাই শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টার প্রকল্প হাতে নিয়েছে । ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ললাদিঘি ময়দানের হত্যাকান্ডের কথা আমাদের স্মরণে থাকবে ।

 

 

তৎকালীন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদা তখন পুলিশকে এই বলে হুকুম দিয়েছিলেন, গুলি করে শোয়াইয়া ফেলো, হামাইয়া ফেলো ইত্যাদি। ঘটনার ঠিক আগের দিন ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৮ তারিখে সিএমপি কার্যালয়ে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পুলিশ কমিশনারকে শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে তিনি যে কঠোর ও নারকীয় ব্যবস্থা নিতে সিদান্ত নিয়েছেন তা পরিবর্তন করার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি তা না শুনে উল্টো সেদিন পুলিশ কর্মকর্তাদের তীব্র ভৎর্সনা করে বলেছিলেন-ইউ আর অল ব্লাডি আওয়ামী লীগারস। সো দ্যাট দে মে রিমেমবার মি ফর হ্যানড্রেড ইয়ার্স (তোমরা সব ব্লাডি আওয়ামী লীগার। আমি তোমাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করবো। আমি চিটাগাং এর লোকদের শিক্ষা দেবো। যাতে তারা আমাকে ১০০ বছর মনে রাখে) সিএমপির তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার মোখলেসুর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে এসব তথ্য জানান। [ভোরের কাগজ ২৪ আগস্ট ২০০৪] চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) জটিঘাট। দিনভার ব্যস্ত এই ঘাট সন্ধ্যাতেই পিন পতন নিস্তব্ধতা। ২০০৪ সালের পয়লা এপ্রিলের মধ্যরাতটি ছিল স্বাভাবিক এমন রাতের চেয়ে একটু ভিন্ন। সেই রাতে পুরো জেটি নীরব নিস্তব্ধ থাকলেও একটি অংশে ছিল শ্রমিকদের কোলাহল। জেটির ভেতর সারিবিদ্ধ ১০টি খালি ট্রাক।

 

 

দুটি ট্রলার নোঙর করা ঘাটে। বড়টি ঘাটের পাশের এবং অন্যটি সেটার গায়ে লাগানো। বড় ট্রলার থেকে ছোট বড় কাঠের বাক্স ক্রেনের সাহায্যে ঘাটে রাখা ট্রাকে তোলা হচ্ছে। ঠিক এমন সময় জেটি ঘাটে হাজির পুলিশের দুই সার্জেন্ট। সার্জেন্ট আলাউদ্দীন ও হেলালউদ্দীন ভুঁইয়া। তারা ট্রলারের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। মাল খালাস বন্ধ রাখতে বলেন। কাঠের বাস্কে কী আছে-এমন প্রশ্ন করে কোনো জবাব পান না তারা। এক পর্যায়ে দুই ব্যক্তি সার্জেন্টদের কাছে এসে একজন হাফিজ এবং অপরজন আবুল হোসেন বলে পরিচয় দেন। হাফিজ কোনো রাখঢাক ছাড়াই সোজাসাপ্টা বলেন, ট্রলার ভর্তি অস্ত্র আছে।

 

 

এই অস্ত্র উলফার। আবুল হোসেনকে দেখিয়ে বলেন, তিনি উলফার একজন শীর্ষ নেতা। অস্ত্র আসার খবর সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবার জানা আছে, এগুলো নামাতে বাধা দিলে আপনাদের ক্ষতি হবে। কিন্তু পুলিশের দুই সার্জেন্ট পিছু হঠার পাত্র নন। তারা জীবন দেবেন, কিন্তু মাল খালাস হতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ক্ষুব্ধ হাফিজ তার মুঠোফোনটি একজন সার্জেন্টকে দিয়ে বলেন, তোর বাপের সঙ্গে কথা বল, বড় অফিসার লাইনে আছে। সার্জেন্টের পাল্টা জবাব, আমি এবার তোমার বাপকে খবর দিচ্ছি। দেখি তোমাকে কে বাঁচায়? পুলিশ সার্জেন্ট ও অস্ত্রের মালিক বলে দাবি করা দুই ব্যক্তির বাদানুবাদে পরিস্থিত পাল্টে যেতে থাকে। দুই সার্জেন্টের মেসেজ পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ঘটনাস্থলে হাজির হতে থাকে।

 

 

 

শ্রমিকরা মাল ফেলে পালাতে থাকে। ফাঁস হয়ে যায় দেশের সর্ববৃহত অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনাটি। যা ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা নামেই পরবর্তীতে পরিচিতি পায়। তবে সিএমপির তৎকালীন দুই পুলিশ কর্মকর্তা উপরের মহলের চাপে ঘটনাস্থলে গিয়ে উলফা নেতাসহ দুজনকে ছেড়ে দেন। পরদিন এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন এবং চোরাচালান আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন কর্ণফুলী থানার ওসি আহাদুর রহমান।পুলিশের এই দুই সার্জেন্ট হেলালউদ্দীন আর আলাউদ্দিনের সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই উদ্ধার হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান। অনেকেই ভেবেছিলেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহস ও সততার জন্য পুরস্কৃত হবেন তারা। কিন্তু পুরস্কৃত হননি, উল্টো খড়গ নেমে আসে সাহসী দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর। চাকরি হারান তারা। তাদের ওপর চলে অমানুসিক নির্যাতন। মিথ্যা অস্ত্র মামলার আসামি হয়ে কারাগারের কাটিয়েছেন দীর্ঘ ২৭ মাস। এর আগে এক বছর পালিয়ে বেড়িয়েছেন ফেরার হয়ে। মামলা চালাতে গিয়ে ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে।

(৩)

 

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা স্মরণ করলে শিহরিত হতে হয় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৩ আগষ্ট ( তৎকালীণ বিরোধঅ দলীয় নেত্রী ২০০৪ ) সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন , ‘ গোয়েন্দারা আমাকে মিসগাইড করেছে ’ । তারা সভামঞ্চে যাওয়ার পথেও আমাকে মিসগাইড করছিলো। আবার হামলা শুরু হলে তারা আমার গাড়িকে সিটি করপোরেশনের রাস্তা দিয়ে যেতে বলছিলো। কিন্তু বরাবরের মতো আমি যে রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করি সেই রাস্তা দিয়েই ধানমন্ডির সুধাসদনে চলে আসি। মহান আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ’ ।

 

 

তিনি বলেন, আমি মরে গিয়ে যদি দেশের মানুষ বাঁচতো তাহলে মরে যাওয়াই ভালো ছিলো। তিনি বলেন, এত গ্রেনেড, গুলি কোথা থেকে এসেছে, কারা এনেছে তা জানতে চাই। এ জন্যেই আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এটা একটা পরিকল্পিত গণহত্যা। বাঙালি জাতির ওপর এটা বড় আঘাত।আওয়ামী লীগের তরফে ইতিমধ্যেই গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছে। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলার পর বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের তদন্তের কথাও আমরা জেনে থাকবো । এখন পর্যন্ত ওই ঘটনার তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। শনিবারের হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপীয় সম্প্রদায় এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে হিকমাতুল জিহাদ নামের একটি ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী।

 

 

গতকাল মঙ্গলবার সংবাদপত্রে পাঠানো এক ই-মেইলে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে গ্রুপটি। হিকমাতুল জিহাদ শেখ হাসিনাকে ৭ দিনের মধ্যে হত্যা করারও হুমকি দিয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোতে পাঠানো ই-মেইলের বার্তাটিতে বলা হয়, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, শেখ হাসিনা বিপদমুক্ত। আমরা আমাদের আগের সুযোগটি হারিয়েছি। তবে এখন আমাদের মিশন সম্পর্কে আমরা খুবই সতর্ক। তাকে (শেখ হাসিনাকে বলবেন তৈরি থাকার জন্য। আমরা আসছি এবং শেখ হাসিনাকে হত্যা করার আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা ৭ দিন সময় নেবো। হায়দার রব নামে এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে ই-মেইল ঐ বার্তাটি পাঠিয়েছেন।

 

 

এদিকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী হিকমাতুল জিহাদের এই বার্তা সম্পর্কে বলেন যে, গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলো থেকে বার্তাটি তারা পেয়েছেন এবং সেটা তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে অবহিত করবেন।শেখ হাসিনা সেদিন সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছিলেন , ‘আইভি রহমানকে হারিয়ে দেশের একটা বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। গত শনিবারের গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানের মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে। কিন্তু সরকার চালাকি করে তা প্রকাশ করেনি।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী লোক দেখানো নাটকের জন্যই এটা করা হয়েছে। তিনি বলে, প্রধানমন্ত্রী যখন আইভি রহমানকে দেখতে গিয়েছিলেন তখন ছোট মেয়ে জামাকে অন্য ঘরে আটক রাখা হয়েছিল।

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশন করার জন্যই আইভি রহমানকে দেখতে গিয়েছিলেন।শেখ হাসিনা গত শনিবারের গ্রেনেড হামলার জন্য পুনরায় ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করে বলেন, সরকারের মদদ ছাড়া এই ধরনের ঘটনা কেউ ঘটাতে পারে না। তিনি বলেন, এতোগুলি গ্রেনেড কোথা থেকে আসলো? এটা কোন ধরনের বর্বরতা। যুদ্ধে যে ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সে ধরনের গ্রেনেডই গত শনিবারের জনসভায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে শেখ হাসিনা মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ঐ দিনের ঐ সমাবেশে ছিল বোমা হামলা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে শেখ হাসিনা বলেন, এতোগুলি গোয়েন্দা সংস্থা সেদিন কী করলো? তিনি এ হামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু আমাকে হত্যার জন্য নয়, এটি ছিল রীতিমতো একটি গণহত্যা। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতাল নেই যেখানে গত শনিবারের হামলার পর আহতরা ভর্তি হননি।

 

 

তিনি বলেন, আমরা কোন দেশে বাস করছি সরকার দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশকে সর্বত্র সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ভৈরবে এখন অঘোষিত কারফিউ চলছে। ৪ জন লোক জড়ো হলেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। [ভোরের কাগজ ২৫ আগস্ট ২০০৪]

 

 

(৪ )
আদালতে জঙ্গিদের জবানবন্দি অনুযায়ী , আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে শুরু হওয়ার পর ১২ জন জঙ্গি তিন ভাগ হয়ে তাঁর মঞ্চের তিন দিকে অবস্থান নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল নেতা জান্দাল মঞ্চের সামনে প্রথম গ্রেনেডটি ছোড়েন। ধারণা ছিল, বিস্ফোরণের পর মঞ্চের সামনের জায়গা ফাঁকা হয়ে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থান নেওয়া জঙ্গি বুলবুল গিয়ে সরাসরি মঞ্চে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড ছুড়বেন। কিন্তু প্রথম গ্রেনেডটি বিস্ফোরণের পর ঊর্ধ্বশ^াসে ছোটা মানুষের ধাক্কায় পড়ে যান বুলবুল। উঠে আর গ্রেনেড ছোড়ার সুযোগ পাননি তিনি।

 

 

এ কারণেই প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা, সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও।মুফতি হান্নান তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ছয়জনকে পাঠিয়েছেন। তাঁরা গোলাপশাহ মাজারে ছিলেন প্রয়োজনে সহায়তার জন্য। ওই ছয়জনের দলনেতা ছিলেন ঢাকার সিদ্ধেশ^রী এলাকার জনৈক লাদেন। এই ছয়জনকে সিআইডি শনাক্ত করতে পারেনি।তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড্ডায় মুফতি হান্নানের আস্তানায় দুপুরের খাবার খেয়ে আক্রমণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যার যার মতো ঘটনাস্থলে রওনা হন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবাই আসরের নামাজের আগে গোলাপশাহ মাজার সংলগ্ন পার্কের কোনায় মসজিদে একত্র হন। সেখান থেকে সমাবেশমুখী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলের সঙ্গে মিশে ১২ জঙ্গি সমাবেশস্থলে গিয়ে হাজির হয়।

 

 

 

আগস্ট ২২-এ আওয়ামী লীগের তরফ হতে গেনেড হামলা, হত্যা ও গুরুতরভাবে আঘাত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত এজাহার নিয়ে যান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী এবং অন্য নেতৃবৃন্দ। এই এজাহার রমনা থানায় নিয়ে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের (মাহবুব আহমেদ) অনুপস্থিতিতে তা নিতে অস্বীকৃতি জানান কর্তব্যরত অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর আসমানী। অনেকক্ষণ পরে ভারপ্রাপ্ত অফিসার জানান যে, ঘটনার অকুস্থল ২৩নং বঙ্গবন্ধু এভিনিউর এর দক্ষিণ দিকের সড়ক রমনা থানার কর্তৃত্বের বাইরে, মতিঝিল থানার অন্তর্ভুক্ত। রমনা থানা তাই তাঁদের এজাহার নিতে অপারগ। অতঃপর মতিঝিল থানায় লিখিত এজাহার নেতৃবৃন্দ নিয়ে যাওয়ার পর সেই থানার কর্তব্যরত অফিসার তেমনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে এজাহার নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

 

 

পরে ভারপ্রাপ্ত অফিসার (রফিকুল ইসলাম) এসে ইতোমধ্যে পুলিশ কর্তৃক স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সাব-ইন্সপেক্টর শরীফ ফারুক বাদী হিসাবে) এজাহার লিপিবদ্ধ করে মামলা রুজু হয়ে গেছে এই বাহানায় এই নারকীয় ঘটনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের লিখিত এজাহারটি অনেক বাকবিতন্ডার পর এজাহার হিসাবে নয় বরং সাধারণ ঘটনার তথ্য বলে বিবেচনার অবয়বে থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরির ভুক্তি হিসাবে গ্রহণ করেন। জানা যায় যে, একই সময়ে সাব ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম কর্তৃক দায়েরকৃত অপর একটি এজাহারে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে ৮ আওয়ামী লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত এ গ্রেফতারী তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় এসব থানায় এজাহার নেয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি, আইনের লঙ্ঘন এবং সরকারদলীয় বিবেচনায় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতার প্রতিফলন ঘটেছে।

 

ধরে নেয়া যেতে পারে যে, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অফিস কোন কারণে রমনা থানার সীমান্তে মতিঝিল থানার অন্তর্ভুক্ত দাগে অবস্থিত। ভিন্নতর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত অকুস্থলে কৃত অপরাধ বিষয়ক তথ্য, দৃশ্যত পুলিশ কর্তৃক আমলযোগ্যে (পড়মহরুধনষব) অপরাধ, এক্ষেত্রে হত্যার বিষয়ে এজাহার আইনত রমনা থানা নিতে বাধ্য। বঙ্গীয় পুলিশ বিধি (চড়ষরপব জবমঁষধঃরড়হ ড়ভ ইবহমধষ র.প চজই ১৯৪৩)-এর ২৪৬ এবং ২৪৮ (ক) ধারায় এই ধরনের ভয়ানক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্য বা এজাহার যে কোন থানার পুলিশ অফিসার, টেলিগ্রাম বা এক্সপ্রেস চিঠির মাধ্যমে তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করবে বলে নির্দেশ দেয়া আছে। নিঃসন্দেহে রমনা থানার কর্তব্যরত অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত অফিসার বঙ্গীয় পুলিশ বিধির এই নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেননি।

 

 

রমনা ও মতিঝিলের কর্তব্যরত দুই পুলিশ অফিসার (উঁঃু ঙভভরপবৎ) তারা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার (ঙভভরপবৎ-রহ ঈযধৎমব) নন তাঁদের অবর্তমানে আওয়ামী লীগের তরফ হতে এজাহার গ্রহণ করতে যে অপরাগতা জানিয়েছেন তা আইনসিদ্ধ নয়। ফৌজদারী কার্যবিধি কোডের ৪ (১)(৩) ধারায় দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী কনস্টেবল ও থানার উপস্থিত যে কোন অফিসার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অফিসারের দায়িত্ব ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত।লক্ষ্য করার মতো বিষয় , প্রথম গ্রেনেডটি ফেলার প্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিট আগে ট্রাকের দুই পাশে খানিক দূরে দাঁড়িয়ে থাকা যে ক’জন স্বল্পসংখ্যক পুলিশ (বিরোধীদলীয় নেত্রীর জীপের পিছনে পুলিশ গাড়িতে অবস্থানরত পুলিশ ব্যতীত) ছিল তারা হঠাৎ উদাও হয়ে গিয়েছিল। খালেদা জিয়া ও তার দলের নেতারা বলতে পারবেন কার নির্দেশে তারা গ্রেনেড ছোড়ার আগে সরে গিয়েছিলেন? তিনি দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সহযোগিতার কথা বলছেন?

 

 

(৬)
মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলার মধ্যে শেখ হাসিনার সেদিন বেঁচে যাওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। নেতা-কর্মীরা মানববর্ম বানিয়ে তাকে রক্ষা করেছেন শরীরে শত শত স্প্রিন্টার নিয়ে। দেহরক্ষী তাঁকে বাঁচিয়েছেন ¯œাইপারের ছোড়া গুলিটি নিজের গায়ে বিদ্ধ করে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। অনেকেই বলেছে। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে তারা ফোন করছে আমি মারা গেছি কি না। বোধহয় খালেদা জিয়ার তৈরি করাই ছিল আমি মরলে একটি কনডোলেস (শোকবার্তা) জানাবে। সেটাও নাকি তাদের প্রস্তত করা ছিল। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেটাই বড় কথা।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পেছনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হয়ে জিয়াউর রহমানকে বানিয়েছিল সেনা প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনা প্রধান তাকেই বানানো হয়, যে কি না বিশ^স্ত।তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করেন, তারেক রহমান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ৫ নম্বরে তার যে শ^শুরবাড়ি ওখানে এসে সে ১০ মাস থাকল এবং পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টেনমেন্টের বাসায়। ওখানে থেকে সে কী করল? তার কাজটা কী ছিল? হামলার পর পর পুলিশ এবং বিএনপি-সরকারের ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা সে সময়ের সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। সেদিন আমি ওই এলাকা ছেড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় লাঠিচার্জ। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে পানি দিয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। আমি জানতে পেরে নানককে বলি, আলামত নষ্ট করছে তোমরা ওখানে যাও। আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলার স্থানগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে আলামত রক্ষার চেষ্টা করে।

 

 

‘অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সেটি সেনা অফিসার নিয়ে যায়, সে সেটা রাখতে চেয়েছিল বলে সে চাকরি হারায়। কোনও আলামত না রাখার চেষ্টা তারা করেছিল। এ হামলা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।
‘সে সময় হাইকোর্টের বিচারপতি জয়নাল আবেদিনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে। তারা ফরমায়েশি রিপোর্ট দেয়। সাধারণ মানুষ ধরে এনে জজ মিয়াকে আসামি করে আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের হোতা হিসেবে হাজির করে নাটক সাজানো হয়। এখন আস্তে আস্তে সবই বের হচ্ছে। সাধারণ গ্রামের মানুষ সে এত গ্রেনেড কোথা থেকে কিনবে?’

 

 

‘সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো, শেখ হাসিনা হ্যান্ডব্যাগে গ্রেনেড এনে নিজে মেরেছে। আমরা স্যুইসাইড করতে গিয়েছে যেন। অতগুলো গ্রেনেড হাতে করে নিয়ে যাওয়া সোজা কথা নয়। আমি এক্সপার্ট হলাম কবে? ওরা কী না পারে? মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দিল।‘এখন ধীরে ধীরে সবই বের হচ্ছে। কীভাবে ওই জজ মিয়াকে নিয়ে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে এসে নির্যাতন করে স্বীকাররোক্তি নেওয়া হয়েছিল।ওই হামলার পর হাসপাতালে বিএনপিপন্থী ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবাও দেননি বলে জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘ওই দিন বাসায় পৌঁছে আমি সবার খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম।

 

 

আহতদের উদ্ধার করতে কাউকে আসতে দেওয়া হয়নি। ঢাকা মেডিক্যালে বিএনপিপন্থী চিকিৎসরা হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছিল। আমাদের যারা সমর্থক তারই সেদিন কাজ করেছে, আমাদের লোকজন রক্ত দিয়েছে। কিছু কিছু কষ্ট থাকে, যা সহজে মুছে ফেলা যায় না। ২০০৪ সালের শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার নির্মম ঘটনাটিও সে রকম এক দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আমাদের তাড়া করে ফিরছে। আমাদের চোখে কেবলই ভেসে ওঠে রাস্তায় লুটিয়ে পড়া লাশ আর লাশ, আর সেই লাশের মধ্যে পড়ে থাকা অসংখ্য নারী নেতা-কর্মী। কিছু মানুষ আছে, যাদের ভেতর মানব বলে কোন বস্তু থাকে না। সে রকম কিছু অমানুষ এই গ্রেনেড হামলা চালিয়ে মানুষ শিকার করেছে। একুশে আগস্টের বিকালে আওয়ামী লীগ যদি শেখ হাসিনামুক্ত বা নেতৃত্বশূন্য হত তবে আওয়ামী লীগ যে প্রথম ধাক্কাতেই পনেরই আগস্টের কালরাত্রির পরবর্তীকালের মতো বিধ্বস্ত ও তছনছ হত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আওয়ামী লীগ বিধ্বস্ত ও তছনছ হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কে বা কারা কীভাবে কতটুকু লাভবান হত তা বলতে কিছু ইতিহাসের অভিজ্ঞতায় বেশি বুদ্ধি বা জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না।

 

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিদ্যমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের এবং একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জনদরদী-দেশদরদী রাজনীতির একমাত্র ভরসাস্থল। তাই শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে যে অগণতান্ত্রিক-স্বৈরাচারী, সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী, গণবিরোধী ও দেশবিরোধী রাজনীতির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হত তা কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ২১ আগস্টের হামলার নির্দেশদাতাদের সকলকেই বিচারের আওতায় আনা বিশেষভাবে জরুরী হয়ে পড়েছে ।

সুভাষ সিংহ রায় : রাজনৈতিক বিশ্লেষক।


admin

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network