ঢাকা,
মেনু |||

করোনায় ঘরবন্দি বয়স্কদের জীবন

 

অনলাইন ডেস্ক :
বয়স বাড়ার সঙ্গে কমে যায় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শুধু করোনাভাইরাস নয়, যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন তারা। তাই করোনা ঝুঁকি এড়াতে দিনের পর দিন চার দেয়ালের মধ্যেই কাটছে বয়স্ক নাগরিকদের জীবন। ঘরবন্দি জীবনে হাঁপিয়ে উঠলেও, করোনার অদৃশ্য দেয়াল ভাঙতে পারছেন না তারা।

 

৮০ ছুঁই ছুঁই হলেও হাঁটাহাঁটি আর প্রাত্যহিক কাজের ভেতর ডুবে বয়সটাকে অনেকটাই বশে এনেছিলেন এম এ মান্নান খান। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় দীর্ঘদিনের হাঁটার অভ্যাসে ছেদ পড়ায় এখন নানা অসুখ বাসা বাধতে শুরু করেছে তার শরীরে। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি বসে থাকতে থাকতে। কারণ হাঁটাহাঁটি করতে পারি না তো। মন আমার বাইরে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু আমি যেতে পারছি না তো।’

 

 

সারা বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ৫০ পেরোনো মানুষ। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় বাধ্য হয়েই বয়স্কদের থাকতে হচ্ছে চার দেয়ালের ভেতর। এই শহরের এক প্রবীন নাগরিক জানান, ‘আমার ভালো লাগেনা, মাঝে মাঝে মেয়েকে নিয়ে কথা বলি, নাতনিকে নিয়ে কথা বলি। এভাবে আর কত?’

 

 

এক বাবা বলেন, ‘মেয়েটা আমাকে বলে আব্বু আমাকে নোট করে দাও। তার ভার্চুয়াল ক্লাস থাকে আমি নোট করে দেই।’

আরেকজন প্রবীণ জানান, ‘চা খেতে যেতে পারিনা। বাইরে যেতে পারিনা।’

 

 

করোনার কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাইরে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায়, পাঁচ মাস ধরে প্রয়োজনীয় কাজ ঘরে বসেই সারছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক কাজী রোকসানা বেগম। করোনার অদৃশ্য দেয়াল বাইরের জগৎ থেকে আড়াল করায়, তার একাকীত্বের সঙ্গী এখন পোষা বিড়াল।

 

 

হাজার বছর ধরে চলা নিয়ম ও অভ্যাসের ছন্দপতন অনেককেই দিয়েছে জীবনকে নতুন করে চেনার সুযোগ। এক প্রবীণ বাবা ও তার মধ্যবয়স্ক ছেলের মধ্যে কাটছে ভালো সময় যার ফুসরত পাওয়া যেত না হাজারো কাজের মধ্যে। ছেলে জানান, ‘আমার বাসার পাশে যে এত সুন্দর দৃশ্য আছে আগে জানতাম না। এই করোনার কারণে দেখার সৌভাগ্য হলো।’

 

 

তার বাবা বলেন, ‘আমাদের তো বয়স হয়েছে, এরমধ্যে কি জানি হয়। সবচেয়ে বড় কথা পরিবার তো সবচেয়ে সাফার করবে কিছু হলে।’

 

 

আবার অনেকের জন্য এই ঘরবন্দি জীবন পরিণত হয়েছে নিদারুণ হাহাকারে। এক প্রবীণ নারী জানান, ‘কয়েক মাস ধরে ঘরে বসে আছি। খুব কষ্ট, খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট।’

 

 

প্রবীণদের মনে যাতে নিঃসঙ্গতার ক্ষত তৈরি না হয়, সেজন্য তাদের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ মনোবিদদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সহকারি অধ্যাপক জোবেদা খাতুন বলেন, ‘তারা যদি কথা বলতে চান সেক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সিং হতে পারে, ফেসবুক হতে পারে, অথবা টেলিফোনে যেন তারা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলেন। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবো, তবে তারমানে এই না যে আমরা মন থেকে দূরে চলে যাবো, সেই ব্যাপারটি ঘটবে না।’

 

 

করোনা হয়তো শরীরটাকে চার দেয়ালে বন্দি করে রেখেছে, কিন্তু মনতো মুক্তবিহঙ্গ। যা খুঁজে ফিরছে করোনাহীন চিরচেনা স্বাভাবিক জীবনটাকে।


admin

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
সা‌হিত‌্য সম্পাদক: এম কে সুমনা
Desing & Developed BY Engineer BD Network