ঢাকা,
মেনু |||

প্রথমবারের মতো যৌনকর্মীর দাফন, ফেসবুকে তোলপাড়!

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে আশপাশের গ্রামে মরদেহ দাফন করতে দেয়া হয় না। সামাজিক বাধার কারণে মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হয় পদ্মা নদীতে।২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো এক যৌনকর্মীর জানাজা ও দাফন করা হলো। গোয়ালন্দ থানার ওসি আশিকুর রহমান দায়িত্ব নিয়ে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি এরইমধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ওসি আশিকুর রহমান বলেন, যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদের জানাজা পড়াতে কোনো সমস্যা থাকতে পারে না। এক কর্মীর জানাজা-দাফন হওয়ায় পল্লীর সবার চোখেই আনন্দের অশ্রু। ওদের কাঁদতে দেখে আমিও কেঁদেছি।

তিনি বলেন, আগে গ্রামের কোনো ইমাম জানাজা পড়াতে আসতেন না। হিন্দুদের সৎকারে কোনো ডোমও আসতেন না। পল্লী নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনের কর্মীরাই সৎকার-দাফনের ব্যবস্থা করতেন। এর আগে মরদেহ দাফন নিয়ে যৌনকর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর মারামারি হয়েছে একাধিকবার। এখন এ সঙ্কটের কিছুটা সুরাহা হয়েছে। পল্লীর পাশেই হোসেন মণ্ডলপাড়ায় তাদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান রয়েছে। এখন অনেকটা স্বস্তিতেই দাফন হয় মরদেহ।

ওসি আশিক বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই পল্লীর সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি। ১ ফেব্রুয়ারি তেমনই এক আলোচনায় ছিলাম। ওই সময় এক যৌনকর্মী মারা যান। আমি স্থানীয় মসজিদের ইমামকে ডেকে পাঠাই। ইমাম প্রথমে আসতে রাজি হননি। পরে আমি নিজে গিয়ে বুঝিয়ে রাজি করাই। ইমাম এলেও মানুষ জানাজায় অংশ নিতে দ্বিধাবোধ করে। এরপর আমি ও আমার সহকারীরা নামাজে অংশ নিলে মানুষও আসতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর ঘটনা হলেও দিনটি ছিল যৌনপল্লীর জন্য আনন্দের। কোনো ইমাম আগে তাদের জানাজা পড়াননি। এখন থেকে পল্লীর কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে দাফন-সৎকার হবে সঠিক নিয়মে।


রিয়াজ পাটওয়ারী

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network