ঢাকা,
মেনু |||

চিকিৎসা নিতে এসে সংসার ভাঙ্গছে রোগী ও স্বজনদের!

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ঘর সংসার ভাঙ্গছে রোগী ও স্বজনদের। এ জন্য ওষুধ কোম্পানী ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং প্রতিনিধিদের দায়ি করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এমনকি রোগীর স্বজনদের শ্লীলতাহানী করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসা সেবায় সাহায্য করার নামে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তারা সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত পুরো হাসপাতালে অবস্থান করে। একাধিক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালের বহিঃবিভাগে কোন রোগী চিকিৎসকের সাক্ষাত শেষে বেড়িয়ে আসলেই ওই রোগী ও তার স্বজনদের ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা ঘিরে ধরে তার ব্যবস্থাপত্র দেখতে চায়।
এভাবেই শুরু হয় তাদের অনৈতিক কাজের প্রথম ধাপ। ব্যবস্থাপত্র দেখার নাম করে রোগী ও তার স্বজনদের সাথে শুরু করে দেয় বিভিন্ন আলাপচারিতা। এভাবেই ওষুধ ক্রয় ও পরীক্ষা-নীরিক্ষায় সাহায্য করার নাম করে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পর্যায়ক্রমে তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্কুল-কলেজের মেয়েরা থাকে প্রধান টার্গেট।

তবে তাদের এ অনৈতিক কর্মকান্ডের হাত থেকে বিবাহিত মহিলারাও বাদ পড়ে না। মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করার অন্তরালে মেয়েদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড কারো কারো কাছে নেশা ও পেশায় পরিনত হয়েছে। এর পূর্বেও বিভিন্ন সময় হাসপাতালে বসে কু-প্রস্তাব দেয়ার সময় জনতার হাতে আটকও হতে হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। পরে জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিং প্রতিনিধিরা তাদের অনৈতিক কাজের এমন পসরা সাজিয়ে বসলেও কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। তারা বাধ্য হয়েই এসব কিছু মেনে নিচ্ছে।

যৌন হয়রানী করার অভিযোগে গত মঙ্গলবার হাসপাতালের ৩য় তলায় পুরুষ অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের সামনে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যাল লিঃ এর প্রতিনিধি নিরব হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। পরে অন্যান্য বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এগিয়ে এসে নিরবকে উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নগরীর শায়েস্তাবাদ এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগম। রহিমার স্বামী আজিজুল জানান,
গত ২৭ অক্টোবর আজিজুল সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের অর্থপেডিক্স-২ ইউনিটে ভর্তি হন। আহতের স্ত্রী রহিমা ওষুধ কিনতে ওয়ার্ডের বাইরে আসলে সেখানে থাকা নিরব তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। নিরব তার নাম ঠিকানা জানতে চায় ও বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। একপর্যায়ে নিরব রহিমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে তার ফোন নম্বর চায়। প্রথমে রহিমা এড়িয়ে গেলেও নিরব তার পিছু নিতে থাকে। সর্বশেষ রহিমা ফোন নম্বর না দিলে তাকে ভয়ভীতি ও বাজে মন্তব্য করতে থাকে। এ সময় রহিমার ভয় পেয়ে দৌড়ে এসে ওয়ার্ডের মধ্যে চিকিৎসাধীন স্বামীকে জানায় ও ডাকচিৎকার করলে নিরব সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খুজেও নিরব আর পাওয়া যায়নি। ঘটনার ৩দিন পর রহিমা পুনরায় ওয়ার্ডের সামনে নিরবকে দেখতে পেয়ে স্বামীকে জানালে আজিজুল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে নিরবকে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ব্যাপারে নিরব জানান, আমি এমন কোন কাজ করিনি। আমি শুধু তার নাম ঠিকানা জানতে চেয়েছি।

অপরদিকে ডায়াগনস্টিকের প্রতিনিধি সেজান মাহমুদ অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডের মধ্যে বসে নলছিটি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর বোন রেখাকে কু-প্রস্তাব দেয়।

একপর্যায়ে সেজান মাহমুদ ওই মেয়ের ফোন নম্বর নিতে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা করে। এ সময় রেখা ডাকচিৎকার করলে সেজান মাহমুদ পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী রেখা মেডিকেল গার্ড পুলিশের নিকট অভিযোগ দিলে ইনচার্জ এসআই নাজমুল অভিযুক্ত সেজান মাহমুদকে গার্ড রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে রেখা পুলিশের সামনে বসেই সেজান মাহমুদকে চড়-থাপ্পর দেয়। পরে সতর্ক করে দিয়ে সেজান মাহমুদকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনার পরও থেমে থাকেনি মাহমুদ। প্রতিনিয়ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে সে মেয়েদের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে।

নগরীর গ্যাস্টারবাইন এলাকার আখি নামে এক রোগীর স্বজন জানান, শাশুড়ী চিকিৎসা করাতে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে সাহায্য করার নামে আমাদের কাছে এগিয়ে আসে। এভাবে সে আমার নাম ঠিকানাসহ বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার ফোন নম্বর চেয়ে বসে। আমি দিতে না চাইলে সে নিজেই একটি কাগজে তার ফোন নম্বর লিখে আমার হাতে দিয়ে রাতে ফোন দিতে বলে।
এ সকল বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুর রাজ্জাক জানান, যৌন হয়রানীর বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে যথাযথভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


রিয়াজ পাটওয়ারী

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network