ঢাকা,
মেনু |||

নাব্য সংকটে বরিশাল ঢাকার লঞ্চগুলো

বরিশাল থেকে ঢাকা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। রাত্রীকালিন নৌ-ভ্রমণ আরামদায়ক বিধায় নৌ-রুটের বিলাশবহুল লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের পদচারণাও বেশি। কিন্তু চলতি মৌসুমে নাব্য সংকটের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথ। এমনকি নাব্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সহজ ও নিরাপদ নৌরুটগুলো।

যদিও খুব শীঘ্রই বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুট নিরাপদ করে তুলতে চ্যানেলগুলোতে ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নাব্য সংকট দূর হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম-পরিচালক) আজমল হুদা মিঠু সরকার।

বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে নাব্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে একটি চ্যানেল। বিকল্প চ্যানেল হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে লঞ্চগুলো। তার মধ্যে বরিশাল নৌ-বন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে পলি জমে নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রতি রাতেই আটকে যাচ্ছে ঢাকাগামী লঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ঘাট ত্যাগ করছে লঞ্চগুলো। এমন পরিস্থিতিতে জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো।

বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের বিলাশবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস এমভি অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চের মাস্টার আলমাস দেওয়ান জানান,বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে বরিশাল নদী বন্দর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি পয়েন্ট নাব্য সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পয়েন্ট হয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতে গিয়ে কখনো কখনো দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে।

তিনি আরো জানান ‘নাব্য সংকটের কারণে এরই মধ্যে মিয়ারচর চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই মাস ধরে ওই চ্যানেল হয়ে লঞ্চ চলাচল করছে না। মাস কয়েক পূর্বে মিয়ারচর চ্যানেলের প্রবেশ মুখে একটি বাল্কহেড ডুবে যায়। সেটি উদ্ধার না করায় চ্যানেলটির বিভিন্ন পয়েন্টে পলি মাটি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে। এ কারণে বিকল্প চ্যানেল মেঘনার উলানীয়া-কালিগঞ্জ হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে গন্তব্যে পৌঁছতে দুই ঘণ্টা সময় বেশি লাগার পাশাপাশি অন্তত তিন ব্যারেল (৬শ লিটার) তেল বেশি লাগে।

কিন্তু ওই চ্যানেলটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এক সময়ের উত্তাল এই চ্যানেলটির প্রায় একশ মিটার এলাকাজুড়ে জোয়ারের সময়েও সর্বোচ্চ ২ মিটার পানি থাকছে। অথচ যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চলাচলের সময় তলদেশ অন্তত দুই মিটার পানিতে ডুবে থাকে। এ কারণে ওই চ্যানেলে মাটি ঘেষে লঞ্চ চলাচল করতে হয়।

তার মধ্যে ওই চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচরে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকে। তাছাড়া এ চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোকে চলাচল করতে হবে ভোলার ইলিশা হয়ে। এতে করে গন্তব্যে পৌঁছতে অন্তত আরও এক ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে। বেড়ে যাবে জ্বালানি খরচও।

অপরদিকে, বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের বাউশিয়া-নলবুনিয়া চ্যানেলে ইতিপূর্বে ৭-৯ মিটার পর্যন্ত পানি থাকতো। বর্তমানে ওই চ্যানেলে জোয়ারের সময় দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত পানি থাকছে। আর ভাটার সময় থাকে মাত্র ১ মিটার পানি। যে কারণে ভাটার সময় বড় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। বাকিটা পলি মাটি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে।

একই অবস্থা বরিশাল শহরের উপকণ্ঠ শায়েস্তাবাদের কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁসহ তিন নদীর মোহনায়। সেখানে পলিমাটি জমে চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম ঘটেছে। তিন নদীর ওই মোহনায় ভাটার সময় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই আটকে যাচ্ছে নৌ-যান। এতে ঘটে দুর্ঘটনাও।

বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের এমভি এডভেঞ্চার ১ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে কীর্তনখোলা লঞ্চ ঘাটেও নাব্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে প্রায় প্রতি রাতেই লঞ্চ ঘাটে আটকে যাচ্ছে। জোয়ারের অপেক্ষায় অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত ২৬ অক্টোবর রাতে এক সঙ্গে দুটি লঞ্চ এমভি কীর্তনখোলা-১০ ও এ্যাডভেঞ্চার-৯ বরিশাল নৌ-বন্দরে আটকে যায়। যে কারণে রাত ৯টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। রাত ১০টার পরে জোয়ার আসলে একে একে দুটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। তাছাড়া ২৭ অক্টোবর রাতে আটকে যায় এমভি মানামী লঞ্চ। জোয়ারের অপেক্ষায় থেকে নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা পরে ঘাট ত্যাগ করে ওই লঞ্চটি। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের তুমুল বাকযুদ্ধও হয়।

এম ভি মানামী লঞ্চের মাস্টার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বরিশাল নৌ-বন্দরের বর্তমান এমন পরিস্থিতি আর ১০-১২ দিন গেলে পন্টুনে কোন লঞ্চই বার্দিং করতে পারবে না। এমনকি বার্দিং করলেও সিডিউল অনুযায়ী চলাচল করতে পারবে না লঞ্চগুলো। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং লঞ্চ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হবে। তাই নাব্য সংকট নিরসনে দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম চালুর দাবি জানান লঞ্চের এই মাস্টার।

এদিকে, বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে নাব্য সংকট সৃষ্টির জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র অপরিকল্পিত ডেজিং ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন লঞ্চ মালিক এবং মাস্টাররা। এর কারণ উল্লেখ্য করে তারা বলেন, ‘মাত্র এক বছর আগে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে নদীতে ড্রেজিং করা হয়েছে। কিন্তু বছর শেষ না হতেই যেসব চ্যানেলে ড্রেজিং করা হয়েছে তাতে আবার পলি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে। কেননা ড্রেজিংয়ের বালু যে স্থান থেকে কাটা হচ্ছে তা আবার এক থেকে দেড়শ মিটার দূরেই ফেলা হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের বালু নদীতে না ফেলে অন্যত্র সরিয়ে ফেললে বছর বছর এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। তাছাড়া ড্রেজিং কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন লঞ্চ মালিক এবং মাস্টাররা।

নাব্য সংকটের বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা এবং বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকে। এ কারণে কিছু কিছু পয়েন্টে পলি জমে নাব্য সৃষ্টি হয়। এ কারণে কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধান হবে। যেসব পয়েন্টে পলি জমে নাব্য কমে গেছে সেসব পয়েন্টে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ড্রেজিং এর বালু নদীতে ফেলা ছাড়া কোন উপায় নেই। কেননা যে পরিমাণ বালু কাটা হয় তা স্থলে ফেলাবার মত জায়গা নেই। এ কারণে বিগত বছরেও আমরা ঘোষণা দিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছিলাম যে কারোর নিম্নজমি থাকলে তা বিনামূল্যে ড্রেজিংয়ের বালু দিয়ে ভরে দেয়া হবে। এবারও সেই একই ঘোষণা থাকবে। কিন্তু কেউ বালু না নিলে সে ক্ষেত্রে নদীতে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায়ও থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।


রিয়াজ পাটওয়ারী

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: শরিফুল আলম সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network