ঢাকা,
মেনু |||

তালা ঝুলছে অধ্যক্ষ সিরাজের বাড়িতে, রুহুলের আলিশান বাড়ি ভুতুড়ে

অনলাইন ডেস্ক:
সিরাজ-উদ-দৌলা ও রুহুল আমিনফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার ঘরে এখন তালা ঝুলছে। জানা গেছে, রায়ের ৪-৫ দিন আগ থেকেই তার বাসায় তালা ঝুলছিল। অপরদিকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি রহুল আমিনের বাড়িতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। রুহুল আমিন একইসঙ্গে মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরের দিন শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) প্রতিক্রিয়া জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে এই দৃশ্যপট দেখা গেছে ।

ফেনী পৌর এলাকার ১২নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি রোডে ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ বাড়িটি অধ্যক্ষ সিরাজের। ওই ভবনের দোতলার পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। সেই বাসায় শক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায় দরজায় তালা ঝুলছে।

সিরাজের পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন ফেনী সদরের ফাজিলপুরের মো. ইব্রাহিম। তিনিসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশপাশের কয়েকজন বাড়ি মালিক ও বাসিন্দা বলেন, রায়ের কয়েক দিন আগে সিরাজের পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা দেখা গিয়েছিল । মামলার রায়ের ৪ থেকে ৫ দিন আগে থেকে ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে ।

তারা কোথায় গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুই বলতে পারেননি প্রতিবেশীরা। সিরাজের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে তারা জানান।

নুসরাত হত্যায় প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজের ভূমিকা
নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও তাকে যৌন হয়রানি ও হত্যার নির্দেশ দেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করলে তিনি মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। হুমকিতে কাজ না হওয়ায় তিনি নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশনা দেন।
কীভাবে হত্যা করতে হবে তারও নির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনাও দেন অধ্যক্ষ সিরাজ। পুড়িয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

অপরদিকে নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি রুহুল আমিনের আলিশান বাড়ি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। বাড়ি ও তার আশপাশে এখন শুনসান নীরবতা। শুক্রবার বিকালে সোনাগাজী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের গনেশ গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।

ওই বাড়িতে যাওয়ার পথে দেখা যায়, রাস্তায় প্রহরায় রয়েছে তার কিছু ঘনিষ্ঠ কর্মী। তারা বললেন, লিডারের (রুহুল আমিন) সাজাতো আপনাদের চাওয়া অনুযায়ী আদালত দিয়ে দিয়েছেন। এরপর আর কী নতুন করে জানতে আসলেন?

স্থানীয় এক দোকানি জানান, রুহুল আমিন জেলে যাওয়ার পর বাড়িটি এখন নীরব। দেখলে মনে সেখানে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে যেভাবে জড়ায় রুহুল আমিন
নুসরাতের গায়ে কেরাসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পুলিশ প্রশাসন ম্যানেজ করার আশ্বাস দেয় রুহুল আমিন। নুসরাত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে যা যা করার সব করে সে। ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে দুই দফা ফোনে কথা বলে সবকিছু নিশ্চিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলো—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


রিয়াজ পাটওয়ারী

প্রধান ‍উপদেষ্টা: মো: ‍আবু তালেব মিয়া
প্রকাশক: মো: ‍ইনাম মাহমুদ
সম্পাদক : রিয়াজ পাটওয়ারী
যুগ্ম সম্পাদক: খান আব্বাস
প্রধান সম্পাদক: মো: কামরুল ইসলাম
সহ সম্পাদক: শরিফুল আলম সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: শাহাদাত তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এম এইচ প্রিন্স
Desing & Developed BY Engineer BD Network